ভালোবাসা

4 06 2011

ভালবাসার ফসল। চারিদিকে এতো ভালোবাসাবাসি, তাহলে ওর অবস্থান কেনো সোহরোয়ার্দী মেডিকেলের পেছনের ড্রেনের ময়লা পানিতে?

ভালবাসা তুমি লোমকূপে আগুন ধরিয়ে দিলে,
বিক্ষুব্ধ জনতা তোমার এই ঘৃণ্য মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলবে।
তুমিতো এমন ছিলেনা- তুমি ছিলে সবার-

পশ্চিমের অনুকরনে রসিক বুড়ো
শফিক রেহমানের হাত ধরে আমরাও বানের জোয়ারে ভেসেছি
দেহ পসরিনী আর তোমাদের মাঝে খুব কি ফারাক?

ওরা প্রেম বেচে খায়, স্বামী সংসার চালায়।
আর তুমি?
পড়াশুনা আর ফাঁকে উঁকিঝুকি।

তোমাদের ওস্তাদদের চেয়ালের দু পাটিতে দু হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়।
জানো? কি করছো তোমরা?
সমস্যায় পড়ে নাকের জল চোখের জলে একাকার কাঁদো- আর আমরা যারা বলি
এটাই শেঁকড়- দেখিয়ে দেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে
তারাই গেঁয়ো, খ্যাত।

প্রেম জীবনে আসবেই, কিন্তু কাউকে ঠকানো? অথবা বেহিসাবি?
আশ্বিনের কুকুরের মতো মাথাচাড়া দেয় প্রেম
তোমাদের বুকের পাঁজরে।

আর ব্যাবসায়ী টাকা গুনে – দু’পা ছড়িয়ে
তোমাদের এই অসুস্থতার দিনে
ওরা তো তোমাকে বার বার বেঁচে কিনে-

আজ একবার ভালোবাসাকে বাগে পেলে জানতে চাইতাম
তুমি কি কেবল প্রেমিকার উচ্ছাস?

ভালোবাসা তুমি অবুঝ শিশুর লাশ
বিকারগ্রস্ত তারুন্যের উল্লাস।

ফ্যনের সাথে ওড়না পেচানো ফাঁস
মাড়িয়ে দেয়া কিশোরী ফুল আর ঘাস।





ধিরে আমাদের ব্যাঙ হয়ে ওঠা

4 06 2011

মানুষ সর্ব শ্রেষ্ঠ?
সত্যি কি তাই?

প্রশ্নগুলো শুনে মনে হয় রাশভারী কোনো হাবুগুবু আলোচনা শুরু করলাম বুঝি। আরে ধুর!! বাদ্দেন। আমি ওসব ভয়াবহ বোরিং আলোচনায় যাইনা। বরং কিছু হাস্যকর প্রশ্ন জন্মায়।

যেমন ধরুন- আমি কি আসলেই মানুষ? কিন্তু কেনো মানুষ? আমি নিজেকে মানুষ ভাবি বলেই আমি মানুষ। তাই না? বীজগনিতের মত মনেকরি, আজ থেকে আমি মানুষ না। আমি – আমি , আমি একটা কুনো ব্যাঙ।

ছোট বেলায় কুনো ব্যাঙ দেখেছিলাম, আমাদের মসজিদ মার্কেটের পেছনে দু কামরার ( মাঝের কামরায় হার্ডবোর্ড দিয়ে পার্টিশন দিয়ে দুটো করা হয়েছিলো) ঘরের কোনায়। আম্মু তখন আনেক ছোট্ট খুকি ছিলেন। আমার সাথে ব্যাডমিন্টন খেলতে আব্বু দুটি কাঠের ব্যট আর একটা প্লাষ্টিকের কর্ক এনে দিয়েছিলেন। আমি আর আম্মু খেলতাম।

ঐ কামরাগুলো তখন বেশ বড় মনে হতো, কিন্তু প্রায় ১০ বছর পর আঁশটে একটা মটকা গন্ধ আর প্যলেস্তার খসে পড়া ছাঁদ (আমরা ওখানে থাকতেও মাঝে মাঝে মশারীর উপর খসে পরতো) লবন ওঠা মেঝে দেখে আমি অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে। নিজের জন্য খুব মায়া হলো। সেই সময় এই ছোট্ট রুমগুলোতে কি করে ছিলাম!! তাও যে সে থাকা নয়, বেশ সুখে থাকা।

প্রথম সন্তানরা সৌভাগ্যবান এজন্য যে মায়েদের সব মমতা আর ধৈর্য এবং জমিয়ে রাখা পরিকল্পনার আদরে সে বড় হয়। আহ্লাদী মামনিটাই ছিলো আমার একমাত্র খেলার বন্ধু। তো একদিন খেলতে গিয়ে কর্ক উড়ে পড়লো কোনায়। আনতে যেয়ে দেখি নাদুসনুদুস একখান কুনো ব্যাঙ একদম মহাজনের মতো আরামসে বসে আছেন। আম্মুকে বললে আম্মু যতটা না আগ্রহে ওটার দিকে তাকালেন তার চেয়ে তাঁর চেহারায় ভয়ের প্রকাশ ছিলো অত্যাধিক। মনে হলো প্রাগৌতিহাসিক কোনো ডায়নোসর তার শিকারের দিকে তাকিয়ে আহুম উহুম করছে। আর আম্মি !!

যে করেই হোক ওটাকে বের করতেই হবে।

কিন্তু আজ আমি নিজেই ব্যাঙ। কে আমাকে বের করবে? আম্মু? জীবনেও না। ব্যাঙ হোক আর সাপ হোক ছেলে ছেলেই। তাকে কি আর বের করে দেয়া যায়?

নিজেকে ব্যাঙ ভাবলেও কপাল গুনে বেঁচে গেছি ব্যাঙ কাটার মতো নৃশংস একটি অধ্যায় থেকে। যারা সাইন্স গ্রুপ থেকে পাশ করেছেন (কিংবা ফেইল করেছেন) তারা অনেকেই ব্যাঙ কেটে মানুষ কাটার স্বাদ আহরণ করেছেন। আমি না কাটলেও বিজ্ঞান ভবনে গিয়ে জীবন্ত ব্যঙ্গের বিদির্ণ বক্ষ উন্মোচন করে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আর ফুসফুসের উঠানামা দেখার মতো আদিম পৈশাচিকতাকে কোনো মতেই অপূর্নাঙ্গ রাখতে সক্ষম হইনি। দেখেছি জীবন্ত ব্যাঙএর বুকে সেলাই করে তাকে ছেড়ে দেয়া এবং তার লাফিয়ে লাফিয়ে কিছুতেই বুঝে না উঠা এই মানব প্রকৃতির প্রতি এক বুক ব্যাথা নিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার শেষ চিহ্নটুকুও।

বানর তো মানব জাতির সবচেয়ে কাছাকাছি। কেন বানর কাটা হয়না? ব্যাঙকেই কেনো কাটা হয়? কারন আমার মতে দুটো।

এক- ব্যাঙ দেখতে ছোট হলেও শারীরিক গঠন অনেকটা মানুষের মতোই।
দুই-বানর অনেক চালাক কিন্তু ব্যাঙ অনেক বোকা এবং সহজলভ্য।

আর তাই
বেচারা ব্যাঙ
বাড়িয়ে ঠ্যাঙ
চিৎ পটেঙ।

কুংফু হাসেলে ভিলেনটা কিন্তু শেষের দিকে ব্যাঙ হয়ে যায়। আমার নিজেকে ব্যাঙ ভাবা আজকে থেকে শুরু। কাল সকালে গেইটম্যান সবুজ ভাই বের হওয়ার সময় যখন জিজ্ঞেস করবে স্যার কখন ফিরবেন?

আমার জবাব হবে- ক্রুকুক-ক্রুকুক। মানে তারাতারি। আমরা যতই বলিনা কেনো ব্যাঙ ঘ্যাঙ্গর ঘ্যাঙ্গর করে ডাকে কিন্তু সত্য নয় এটা। আমরা কবেই বা সত্য বলেছিলাম? সত্যতো কেবল ডিকসনারিতে জিইয়ে রাখা একটি জিয়ল শব্দ। আমি নিজ কানে ব্যাঙকে কোনো দিন ঘ্যাঙ্গর ডাকতে শুনিনি। কেউ শুনেছে এমন প্রমাণও মিলবেনা।

সবুজভাই হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকবে। এর পর চোখে হালকা একটা ডলা মেরে আবার জিজ্ঞাসু নেত্রেঃ স্যার আপনি ব্যাঙএর মত শব্দ করছেন কেনো?
সেই জগৎবিখ্যাত হাসিখানা টলমল করে বলবো-ক্রুকুর ক্রুকুর ক্রুকুর। প্রথমটা হচ্ছে নিজেকে, পরেরটা ব্যাঙ, এরপর ভাবছি। আমার পাগলামো দেখে উনার নির্ঘাত মাথায় গোলমাল দেখা দেবে। এবং সিঁড়ির নিচের ছোট্ট মুরগীর খোপের মতো রুমে খাটের মধ্যে বসে সমানে বালতি নিয়ে পানি ঢালবেন অন্তত ৩০ মিনিট।

আমি এদিকে ব্যাঙদের জনপ্রিয় কোনো গান ক্রুক ক্রুক করতে করতে বাইরে বেরিয়ে আসবো। আচ্ছা ব্যাঙদের প্রিয় গান কি? আমরা ওদেরকে বৃষ্টির দিনে কোরাস গাইতে শুনি। মানুষ ফুর্তিতে থাকলে যেমন জোরে গান গায় তেমনি ওরাও হয়তো। যেমন এই মুহুর্তে আমার মনে হচ্ছে ব্যাঙদের সবচেয়ে প্রিয় গান “আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম” ওদেরকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দেয়া হলে ওরাও হয়তো ক্ষুদে কোনো এম্পিথ্রী প্লেয়ার আবিষ্কার করতো যা হতো ওয়াটার প্রুফ। বৃষ্টির মধ্যে ওরা কানে লাগিয়ে শুনতো— আরে? মানুষের বুদ্ধিমত্তা? ওহো- ব্যাঙ হতে গিয়ে ভুলেই গিয়েছিলাম আমার যে বুদ্ধিমত্তা আছে। তাহলে কাহিনি কি? আমার বুদ্ধিমত্তা আছে আর ব্যঙএর নেই? কিন্তু ব্যঙএর যেটা আছে- ওটা কি?

ওটা হচ্ছে ফিল। আজকাল অত্যাধিক মাত্রায় প্রচলিত একটি শব্দ হচ্ছে ফিল। ফিলিং করা- আমি কাউকে বা কোনো কিছুকে ফিল করছি। ভাবতেই কেমন যেনো শিহরিত হই। মনে হয় যেনো—কি মনে হয়? মনে হয় ফিল করছি- আহ!! বুক ভরে দম নেই। বহুজাতিক কোম্পানি তাদের মায়াময় বিজ্ঞাপন আর স্লোগানে আমাদের শেখায় জাষ্ট ফিল ইট। ওরা দেশের প্রতি আমাদের মায়াকে নিজেদের পন্যের জন্য ব্যাবহার করে দেশকে ফিল করতে শেখায়। দেশ নিয়ে কিংবা জীবন নিয়ে থিংক করতে শেখায় না। এজন্যই ওদের শ্লোগান হয় বন্ধু আড্ডা হাড়িয়ে যাও। কিন্তু হাড়িয়ে যাওয়ার পর ছেলে কিংবা মেয়েটির যে দ্বির্ঘস্থায়ী একটা শুন্যতা কিংবা তাদের বাবা মায়ের যে শুন্যতা সৃষ্টি হবে সেটার দ্বায়ভার কি ডিজুস নেবে? কোনদিন না।

ফিলের কাজ হচ্ছে র‌্যাম এর মতো। পিসির অস্থায়ী মেমরি র‌্যাম। ফিলিং আসলে কিছুটা সময়ের কিংবা মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। এর পর ভুলে যাওয়া কিংবা ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়া অথবা বহু বছর পরে কোনো এক বিকেলে বুকের মধ্যে এক দলা কষ্ট জমিয়ে নষ্টালজিক হয়ে উদাস আকাশ দেখা। অদ্ভুত কি?? ফিল অনেক প্রচন্ড। মানে এর শক্তি দুর্বার, কিন্তু ক্ষণস্থায়ী।

রায়হান স্যার প্রজেকশনে বেশ কদিন আগের মহাখালীর একটি বিলবোর্ডের ছবি দেখাচ্ছেন। ওখানে একটি তরুনী জিন্স আর টপ পড়ে বাবল আপ এর এক লিটার বোতল হাতে দাড়িয়ে। পাশা পাশি ওরই আরেকটা ছবিতে পাশ থেকে দেখা যাচ্ছে একটা হাফ লিটারের বোতল হিপের ওখানের পকেটে আর অন্য একটা মুখে। স্যার জানতে চাইলেন এর অসঙ্গতি গুলো কি? হাত তুললাম। খাঁটি ইংলিশে বললাম (তখনো ব্যাঙ হইনি)

১। ড্রেস কোড
২। উইমেন এপল
ওয়াই শি পুটস আ বটল অন হার হিপ?

স্যার আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন ট্যাবুর কারনে শব্দ উচ্চারণ করতে পারছোনা? ইউ আর এবস্যুলেক্টলি রাইট- দা বিগ পয়েন্ট ইজ সেকজুয়াল এপল। দে ট্রাই টু এট্রাক্ট দা ইয়থ।

তামিম- আমাদের খুবই প্রিয় ক্লাসমেট। একজন সফল ডিজে অর্গানাইজারও সে (আমি ওকে বন্ধু বলিনা। যদিও ও আমাকে কারও সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে তা’ই বলে। ও শুনলে হয়তো মনক্ষুন্ন হবে কিন্তু সত্য হচ্ছে আমি কাউকেই বন্ধু বলিনা। বন্ধুত্বটা আমার কাছে খুব একটা সহজ বিষয় না। এজন্যই হয়তো বন্ধু পাইনি খুব এটা। খারাপ হয়নি। নিজের মতো করেই থাকি) স্যারকে বললোঃ উই সুডন্ট লুক ইট ফ্রম রিলিজিয়াস ভিউ।

বলিঃ ইটস এভ্রিথিং ইম্মাই লাইফ। বাট মাই পয়েন্ট ইজন্ট রিলিজিয়ন। ইটস কান্ট্রি এন সোশ্যাল কোড। কোনো কম্পানি চাইলেই এটা ব্রেক করতে পারেনা। আই ডিডন সে এবাইউ হিজাব, মাই কমপ্লেইন অন ওয়েষ্ট্রানাইজেশন।

ফিল এর বিপরিতে যে বিষয় তা হচ্ছে থিংকিং। আমাদেরকে কখনোই কেউ থিঙ্ক করার ব্যাপারে উৎসাহিত করছেনা। কেবলি ফিল করো, ফিল করো—থিংক করলেই হয়তো আমরা ব্যাং থেকে মানুষ হয়ে উঠবো। মানুষ আসলে মানুষ এবং মানুষ না এ দুয়েরই সহাবস্থান। এক্ষেত্রে এই প্রজাতিটি আমার মতো ব্যাঙমানুষ।

স্যার এবার এগিয়ে আসলেন। শিক্ষকরা বোধহয় আমার মতোই ভাবে অথবা আমি শিক্ষকদের মত ভাবি। ক্লাসে স্যার বুঝাতে থাকেন কি করে ওয়েষ্টকে প্রাইম হিসেবে শো করে সুপিরিওর পজিশনে নিয়ে আসা হচ্ছে। ধিরে স্যারের কন্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসে আমার কানে। চারিদিকে তাকিয়ে সবার বিরক্ত ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে বড় একলা মনে হচ্ছিলো। ওরা সমস্যায় পরে অস্থির একটা জীবন যাপন করছে। কিন্তু কেউ যখন সমস্যার গোঁড়া গুলোকে চিহ্নিত কছে তখন তাকে বলছে নেরো মাইন্ডেড, অথবা পাত্তাই দিচ্ছেনা। কারন ওরা সেই জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে নিজেরা সমস্যার কারনকে চিহ্নিত ও করতে পারছেনা।

নিজেকে একটা ব্যাঙ ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছিলো ঠিক তখনই।

কোন ব্যাঙ? যে ব্যাঙকে ল্যাবে ফেলে বহুজাতিক কোম্পানি বুক চিরে তার ভেতরে পশ্চিমা দর্শনে জীবনাচারের জেনেটিক কোড এপ্লাই করে দিচ্ছে। আর ব্যাঙ আহা!! উহু!! কাতুকুতু লাগে বলে হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছে এই ভয়াবহ পৈশাচিক অপারেশানকে। টেরই পাচ্ছেনা। আর ওরা? কোটি ডলার ঢালছে আমাদের মতো সামাজিক আচার আচরন আর পারিবারিক সিষ্টেমে কি করে ফেরৎ আনা যায় সেই গবেষনায়।

হায়!! কি গর্ধব প্রজাতির ব্যাঙ আমরা। ধিরে আমাদের চোখে সওয়া হয়ে যাচ্ছে সকল অশ্লীল বিষয়াবলী। এর বিপরিতে একদল মূর্খ আছে যারা এগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পার পেতে চায়। তাতে মুক্তি মিলবেনা গো ব্যাঙ। বরং বিশুদ্ধ ও শৈল্পিক মানে উন্নিত বিকল্প ব্যাবস্থাই এর সমাধান হতে পারে- যা বাঁচিয়ে রাখবে নিজের শেঁকড় ও বিশ্বাস।

যেদিকে তাকাই কেবল ব্যাঙ আর ব্যাঙ। নিজেকে যা ভাবে অপরকেও সেই অনুযায়ী পরিমাপ করাটা প্রাচীন একটা অভ্যাস মানুষের। তাই আমারও মনে হলো আশেপাশে সবাই ব্যাঙ। ভয়াল কোনো ঝড়ের আগে ব্যাঙগুলো যেভাবে ডাকে ঠিক সেভাবেই বুঝি পৃথিবী ব্যাপী রোল উঠেছে- ক্রুকুক ক্রুকুক ক্রুকুক।

কেবল একটা ব্যাঙ ই কিছুটা ব্যাতিক্রমি সুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইছে ক্রুকুক্রুক—ক্রুক্রুকুক ( যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে)





কিছু মানুষ সত্যিই মানুষ

4 06 2011

সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রখেই ঘাসফরিং বলেঃ কেনো যে জীবনে এত এত ভালো মানুষের সমাহার!! ওর কন্ঠে কৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু ছিলোনা আমি হলফ করে বলতে পারি।

কিছু স্বভাব মানুষকে মানুষ করে তোলে। এখানে প্রথম মানুষ শব্দটা প্রাণী মানুষকে কেবল একটা জীব হিসেবে প্রকাশ করছে। আর দ্বিতীয় মানুষটা হচ্ছে একদমই আত্মীক। আত্মার সাথে অনাবিল একটি প্রবাহিত তরঙ্গের জালে আটকা পরে যায় আশপাশের সবাই। এই বাঁধনটাও একরকম অদ্ভুত। অনেক মজবুত।

সেই মানুষকে দেখলে মনে হয় যেনো নদী। কলকল শব্দে মৃদু কাকলীতে যেনো বহতা নীল। যেখানে সবার ব্যাথারা আর সুখেরা এসে ঠাঁই নেয়। মাছরাঙ্গারা উড়ে উড়ে চক্কর মারে তার বুকে। এই বুঝি মাছ ভেসে উঠলো। টুপ করে সোজা ডুব দিয়ে ছোট্ট চোট্ট কাঁটার রঙ্গীন মাছগুলোকে তুলে নেয়ার ক্ষুদ্র আনন্দ যে কতটা ভয়াবহ সুন্দর তা টের পাই। কেননা সেই সৌন্দর্যের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারিনি। তীরের গাছগুলোকে অনাবিল কোন দুর্বার আকর্ষণে আকৃষ্ট করে রেখেছেন। এ নদী কোনো প্রলয়ংকরী প্রমত্তা নয়। সে ভেঙ্গে চুরমার করেনা তার কিনার। বরং গড়ে দেয় পলির সমাহারে আরো নতুন ভুমি। বিছিয়ে দেয় চরের মাটি। যেখানে হবে আবাস, ফুলের বাগান, কিংবা সুন্দরকে গ্রহন করার প্রত্যাশায় এই ঘুনে ধরা সভ্যতার ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ।

আবার তার চেহারায় তাকিয়ে মনে হয়- না। নদীর মতো ছোট তিনি নন। তাহলে কি সমুদ্র? হা তাই হবে। কেননা এরকম হাজারো নদী ধারণ করতে পারা কোনো মানুষ। যেখানে দিগন্তের অস্তরেখার গায় ঢলে পরে প্রচন্ড উত্তপ্ত সূর্য। আর রাতের আকাশকে মোহময় করার সেই চাঁদের প্রতিফলিত নৃত্য বুঝি খেলা করে। যে সমুদ্রের বুকে নাবিক পথ হারিয়ে ফেলতে পারে অনায়াসেই। কিন্তু নাবিক হয়তো এতোটুকুও আফসোস করবেনা তাতে। তার বুঝি হারিয়ে যাওয়াতেই সুখ। জ্ঞানের প্রচন্ড ঝড়ের কবলে নিজেকে সমৃদ্ধ করার যে সুজোগ, কে হাতছাড়া করতে চায়?

তিনি কি কেবল পানির মতো তরলই? কখনো মনে হয়েছে আকাশ। যেখানে চিন্তার মেঘেরা ডানা মেলে দিধাহীন লুকোচুরি খেলে রোদের সাথে। পাখিদের পালকে শিশ দেয় বাতাস। একটা সুবিশাল আধার যেনো। লক্ষ তারার মহা সমাবেশ। এক্ষুনি যেনো মাউথ পিস হাতে নিয়ে তাঁর শতাব্দীর রাজনৈতিকতা শুরু হবে। বৃত্ত, ঘাসফরিং, অনিন্দ্য, কোকিল সবাই মুগ্ধ শ্রোতা, আবার হয়তো এরাও হয়ে ওঠে বক্তা। আকাশের স্পর্শতায় যেনো সকলেরই মহান হবার নন্দিত আয়োজন।

একবার মনে হলো নাহ- উনি পাহাড়। গাম্ভির্যের পূর্ণতায় এক সুবিশাল মায়াময় সবুজ পাহাড়। কিন্তু সেই পাহাড় গলে যখন ঝর্ণার কাকলী স্থির কান্নার অভাবনিয় সৌন্দর্য নিয়ে গড়িয়ে পড়ে তখন টালমাটাল হয়ে যাই। উনি কি কোনো পাহাড়ীর ঝর্ণা? নাকি ঝর্ণার আঁকাবাঁকা তীর ধরে নেচে যাওয়া উচ্ছল কোনো গ্রাম্য কিশোরী? কিংবা কিশোরীর চুলের ক্ষণে ক্ষণে লাফিয়ে চলা বেনী? অথবা সেই সর্পিল বেনীর শেষ প্রান্তে বাঁধা কোনো রঙ্গীন রাবার ব্যান্ড? যা আমাদেরকে অদৃশ্য বাঁধনে একে অপরের সাথে প্রাণের ভেতরের কোনো না দেখা বাঁধনে বেঁধে রখেছেন?

একটা জ্ঞানের দিন কাটিয়ে ফেরার পথে ভেবে যাই, উনি কি এই সবই? না উনি এসব নয় হয়তো। আবার মনে হলো না, উনি আসলে এর সবই এবং আমার বড় আপুজি।





শেষ ক্লন্তির মখমল

4 06 2011

তোমাদেরকে বলেছিলাম যে, আমি এখন আর আগের মতো নেই
সেই সরু চোখে জগৎ দেখার বিশুদ্ধ চাওয়াটা কোথায় যেনো উবে গেছে
উবে গেছে নীল রসের মতো খরস্রোতা নদীর প্রবাহমান কলকল জল
এরপর দেখা হলে শুধু জানতে চাইবে- কোথায় যেনো দেখা হলো?

দেখা হয় সকল পল্লবে পত্রে, যেখানে গোপন ভার বহনে ক্লান্ত পা আর নয়
সামনে যাওয়ার চেয়ে পেছনে যাওয়াই বুঝি উপাদেয়, কোথাও কিছু একটা
খুব সামান্য বোধহয় তবু অসামান্য কি, তাও জানিনা, কেবল উপলব্ধি করি
এই বিস্তির্ণ মাঠের পেছনে দিগন্ত জোড়া অসামান্য গ্রামীন কোলাহল।

ঘুম ঢুলু ঢুলু ঢলে পড়া মাথা কখন যেনো ঘুমিয়ে যায়, ডাকাই নিয়ম
তবু নির্ডাকে আচানক ঘাঁড় ফিরিয়ে দেখে নেয় শেষ ক্লন্তির মখমল।
এছাড়া এখানে কি’ইবা অবশিষ্ট আছে? আমাদের রাত মানেই অন্ধকার,
নেশাতুর সময়ের বিলুপ্ত প্রায় ভাগশেষে বসে ডানার পালক ছিঁড়ছি।

ক্ষণে মনে হয় এই শেষ, আর নয়, অন্য কোথাও অন্য কিছু করে দেখে
আপন হিসেব মিলাতেই নির্ঘুম ঘর্মাক্ত রাত। শেষ হবে কবে
এর শেষ হবে, ১ বাকি’ই রয়ে যাবে। ১এর এককে কতশত নব আত্মার জাগরণ
এইসব দেখে খুব মনে হয়, ভালই তো, চলছে । চলুকনা ক্ষতি কি?





পুরোটাই একটা কবিতা

4 06 2011

অনেক অনেক দিন পরে পুরোনো ডায়রীটা খুলে
খসে যাওয়া পাতার লালচে হয়ে যাওয়া লেখার ভিরে যে অতীত অনুভুতির দিনগুলো
লুকিয়ে আছে- ওটাই বোধহয় কবিতা।

দূর শহরে একলা বসতে পড়াশুনার ফাঁকে মায়ের একটা কি দু’টা চিঠি
বাবা সোনা মানিক সম্বোধনে- বুকের মাঝে রেখে দেয়ার স্মৃতিগুলো
খুব একলা লাগা ফাঁকা হৃদয়ের বারান্দায় ঐ অনুভুতিটাই হয়তো কবিতা।

বাবার শরীরের আপন গন্ধ থেকে বহুকাল বঞ্চিত থাকা সময়ে
পুরোনো চিঠিগুলোতে প্রতিদিন কাপর কাচা, গোসল করা, রাতে শোয়ার আগে শিশ দেয়া
পড়াশুনা করার উপদেশ, আর কত টাকা পাঠানো হলো
এইসব দেখে আচানক সেই সময়টাতে ফিরে যাওয়াই মনেহয় কবিতা।

ছোট্ট বোনের পেন্সিলে এলোপাথারী জ্যমেতিক আনকোরা ভাঙ্গা বাংলায় লেখা
ভাইয়া তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে- তুমি কবে আসবা?
সে আজ রমনী হতে চলেছে- কি অদ্ভুত? এই তো কবিতা।

ছোট ভাইয়ের কোনো চিঠি নেই। ও লিখেনি- সেই শুন্যতাও তো একটা অনুভুতি
সেই অনুভুতি কি কবিতা নয়? ওটাও বুঝি কবিতাই।

কারো উপহার দেয়া হাতে বানানো ঈদকার্ড, খুব একটা সুন্দর নয়
তবুও ওটায় হাতের যতন, তাকালেই রঙ্গীন অতীত
সেই রংগুলো? কবিতা হবেনা?

আরো কিছু ছবি, টুকরো কাগজ, জীবনের প্রথম লেখাটার কাঁটা ছেঁড়া পান্ডুলিপি
পুরোনো ভাঁজের চাঁপে বিচ্ছিন্ন চার টুকরো হয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় মানুষের চিঠি
আরো কিছু…

এইসব মিলিয়ে প্লাষ্টিকের ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগ।
পুরোটাই একটা কবিতা।





আমাদের পাপে শাস্তিপ্রাপ্তা হেনা

4 06 2011

একটি সমাজকে তার সামগ্রিক বিষয় দিয়েই মূল্যায়ন করতে হয়। তেমনি বঙ্গীয় মুসলিম সমাজকে এদের কাজের বিবেচনায় ইসলামিক বলা যাবেনা। এরা জাতিগত ভাবে মুসলিম কিন্তু ইসলাম এদের মাঝে প্রবেশ করেছে খুবই ভ্রান্ত ভাবে এবং বিরাজ করছে ভয়াবহ একটা বিদঘুটে সামাজিকতার রূপে। এরা যা কিছু করছে তা সত্যিকার অর্থে ইসলামী আচার আচরনের মধ্যে পরে কিনা স্কলাররা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু সাহসী স্কলারের অভাব সর্বত্রই। কালের অব্যাহত আক্রমণে সবাই ইসলামকে কেবলি একটি ধর্ম মনে করছে। অথচ এটা কোনো ধর্ম নয়।

কেনো একটা মানুষকে শাস্তি দেয়ার বেলায়ই কেবল ইসলামকে ডাকতে হবে? তার মানে হচ্ছে ইসলাম মানে জন্মের সময় কানে আযান দেয়া, বিয়ের সময় কালেমা পড়ানো আর মিষ্টি খাওয়া, মৃত্যুর সময় জানাজা পড়িয়ে একটা জীবনের পুরোটাই ইসলামিক করে দেয়ার প্রচেষ্টা। অনেকটা যেনো মুরগীর মাথা খেলাম+ পা খেলাম= পুরো মুরগিটাই খেলাম। অথচ জীবনের প্রতিটি কাজকে স্রষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী পালন করার ওয়াদা দিয়ে আত্মসমার্পন করার নামই মুসলিম। এবার কি মনে হয়? যদি কেউ এতা মেনে না নেয় যে ইসলামে কেবল ধর্মীয় আচার আচরণ ছাড়া আর কিছু নেই তাহলে সে ইসলামের কিছু অংশ বিশ্বাস করলো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করলো। ইসলাম এরকম পঙ্গু বিশ্বাসীকে মুসলিম মনে করেনা। অবশ্য আমরা যে পঙ্গু এটা আমরা জানিনা বলেই আমাদের পঙ্গুত্ব নিয়ে অহংকারে লিপ্ত হই।

হাস্নাহেনা মঙ্গলবার সকালে স্কুল থেকে এসেই ভাত প্লেটে বসে পরে টেলিভিশনটার সামনে। কি দেখাচ্ছে? নাটক কিংবা হিন্দী সিরিয়াল চলছে। যার বিষয়বস্তু প্রেম ছাড়া কিছু নয়। বাপ টাকা জমিয়ে তিন বছরের ওয়ারেন্টি (তিনবছর পর এটা নষ্ট হতে বাধ্য) সহ একটা কম দামি কালার টেলিভিশন কিনলো ৬মাস আগে। কেননা সাদাকালোতে রঙ দেখা যায় না। আর ভাইবোন সবাই চান্দা দিয়ে ডিশের লাইনের টাকা দিচ্ছে। সিরিয়ালগুলোর স্মার্ট পুরুষগুলো দেখে ওরও ইচ্ছে হয় এমন কারো সঙ্গে দিনযাপনের। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক স্রষ্টা প্রদত্ত্ব ভাবেই ইচ্ছাটা বয়স হওয়ার সাথে সাথেই মানুষের মনে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে যে, একজন সঙ্গীর প্রয়োজন। কিন্তু এই ইচ্ছাটার প্রবলতা ওর ভেতর থেকে আসছে তা নয়। বরং ওটাকে খুব সুক্ষ্ণ ভাবে জাগিয়ে তোলা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার। স্কুল বন্ধ। সারাদিন ঘরের কাজ গুছিয়ে হাতের কাজগুলো তারাতারি শেষ করতে হবে। কারন যাষ্ট তিনটায় বিছান পেতে বসে বই দেখবে। বই মানে কিন্তু বই না। এটা হচ্ছে ছবি, ছবি মানে ছিনেমা। বাংলা সিনেমা। আশে পাশের যেসব ঘরে টিভি নেই- (আসলে না থাকার সম্ভাবনা খুবই কম) সব পুঁচকেপুঁচকি এসে হাজির। উপস্থাপিকা যেই ঘোষণা করলেন “প্রচারিত হচ্ছে পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি “তুমি আমার”, ব্যাস- ঘর জুড়ে হৈহুল্লোর। তুমুল শব্দে কান ঝালাপালা বাজনা বাঁজিয়ে টাইটেল দেখাচ্ছে। কিন্তু ঠিক যখনই নায়ীকার গাড়ীর চাকায় ছলকে ওঠা ময়লা পানি নায়কের গায় এসে লাগলো, সবাই চুপ। প্রচন্ড মনযোগে দেখছে। নায়িকা গাড়িথেকে নেমে আসছে, তার পা, উরু, এভাবে করে চেহারা। হৈহৈ, এর পর সেই গতানুগতিক চৌধুরি সাহেব, আর নীতিবান, আদর্শবান নায়কের মদ্যপান আর অশ্লীল নৃত্য দেখেও মনে প্রশ্ন না জাগা যে, নীতি বা আদর্শটা আসলে কোথায়? ধিরে হাস্নাহেনার মনে এমন একজন নায়কের সাথে অন্তরঙ্গ হবার বাসনা। বাসনার একান্ত বসবাস হয়তো কখনো কামনায় রুপ নেয়।

পরের দিন, স্কুলে বান্ধবীদের গল্পের আসরে নায়কের রূপের বর্ণনা। কেননা শরীরে নতুন কোনো কিছু ভর করেছে, যা এতোদিন অনুপস্থিত ছিলো। আর সেই কোনো কিছুটা ঘুরে ফিরে মনটাকে এগুলোতেই নিবদ্ধ করতে চায়। কেউ নেই আসে পাশে যে বলে দেবে এভাবে নয়- বরং এভাবে ভাবো। কেউ নেই যে, বলবে, এভাবে নয় এভাবে দেখো।

কি বলছো বৃত্ত তুমি এসব?
আমরাও তো সারাজীবন ছবি দেখে এসেছি বান্ধবীদের কিংবা বন্ধুদের আসরে আড্ডা দিয়েছি। কই? আমাদেরতো এমনটা হয়নি।

জ্বি, হয়তো আপনি সত্যকে এড়িয়ে যেতে চাইছেন এবং আপনার মনের অবস্থা অনুযায়ী পরিবেশ পাননি যা কিনা আপনাকে অন্ধকারে নিতে পারে অথবা এসব মনে না হওয়ার পেছনে কারন রয়েছে, আপনারা যারা এই লেখাটা পরছেন তারা খুবই শিক্ষিত এবং কিছুটা নৈতীক বোধ সম্পন্ন। হয়তো অশিক্ষিত জনগোষ্ঠির সাইকোলজিক্যাল গ্রথ জন্মানোর বিষয়টি শত চেষ্টাতেও কেউ বুঝবেনা, আবার কেউ হয়তো বুঝবে, কিন্তু আমি আপনাদের কথা বলছিনা। আমি বলছি গ্রাম্য সাধারন একজন কিশোরীর কথা। যার মনন জুড়ে সঙ্গীর অভাব বোধ (শারীরিক ও মানুষিক)। আর চিন্তাজুড়ে একজন নাবিকের অভাব, যে কিনা এইসব চিন্তার ঝড়কে সামাল দিয়েও বন্দরে তরী ভেরাতে পারে।

যে সময়ের তার এই অভাববোধের পূর্নতা পাওয়াতো দূরে থাক মাত্র জন্মানোর কথা সেই সময়ে এটা পূর্নতা প্রয়োজনকে ডিঙ্গিয়ে একদম হাভাতের ক্ষুধায় রুপান্তরিত হচ্ছে। আর ঠিক এই রকম কোনো কিছুর অপেক্ষায় থাকা নিকটাত্মিয়ের রোমশ হাতকে উপেক্ষা করার শক্তি তার থাকার কথা? হতো পুরুষটির স্ত্রী আছে, আছে সন্তান কিন্তু তারও যে চিন্তাটা একসময় ঠিক হাস্নাহেনার কৈশরের অদলেই বেড়ে উঠেছিলো। সে কোন প্রশ্নকে সামনে রেখে নিজেকে সংযত করবে? যা তাকে সংযত করবে তা তো তার মগজে কোনোদিনই ঢুকেনি। শারীরীক কাজ শরীরকে ব্যস্ত রাখে কিন্তু মনকে বাঁধ দেয়ার জন্য প্রয়োজন অন্য কিছু। অথচ এই মনই শরীরের উপর ভর করে আদায় করে নেয় অনেক অন্ধকার।

উপরের পুরো সময়োটাতেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ একজনের অনুপস্থিতি টের পাচ্ছি। অনুমান করেনতো সে কে হতে পারে? পাচ্ছেননা? হুম্ম? ঠিক ধরেছেন। এই পাপ প্রক্রিয়াতে অনুপস্থিত যে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি তিনি হচ্ছেন ফতোয়াবাজ কাঠ মোল্লা। তাকে কাঠ বলা হবে এজন্য যে কাঠের কোনো অনুভুতি নেই, যে যেই করাত দিয়ে তাকে যেভাবে আকৃতি দিতে চায় সে সেভাবেই রুপান্তরীত হয়। যেমন সমাজপতিদের ইশারায় মুহুর্তেই তার ফতোয়া রঙ বদল করে, আবার মসজীদ কমিটির লোকজন সুদ ঘুষ খেলে এসব সংক্রান্ত আলোচনা জুমার দিনে এড়িয়ে যাওয়া, পাছে চাকরি চলে যায়। মোল্লা নিঃসন্দেহে কোরআনের হুকুম বলে পরকালে পার পেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাকে আটকে যেতে হবে। কেননা সে এই পাপ প্রক্রিয়ার পুরো অংক কে দোররা না মেরে কেবল ভাগষেশ কিংবা অবশিষ্টটা অথবা ফলাফলকেই দোররা মেরেছেন। যা কোরআনের হুকুমের স্পষ্ট লংঘন।

অসহায় কিশোরীকে তার কর্মের জন্য সবাই দুষলেও মনে রাখবেন পরকালে সে এই কাঠমোল্লা অথবা আমাদের মতো অতিবুদ্ধিমান সচেতন মানুষদের মস্তক মারিয়ে জান্নাতে চলেও যেতে পারে। কেননা তাকে আমরাই ঠেলে দিয়েছি পাপ করতে। বাধ্য করেছি এমন একটি কাজে যাকে সে কেবল সামাজিক অপরাধ হিসেবেই হয়তো দেখতো, কিন্তু সেই একই অপরাধ সমাজে প্রচুর হচ্ছে বৈধ উপায়ে। কেউ রেহাই পাবেনা। সকল অপরাধের অপরাধিদের শাস্তি তখনই কার্যকর হতে পারে যখন অপরাধ সংঘটিত হবার কোনো কারন কিংবা ইনফ্লুয়েন্স থাকেনা।

যে আধুনিক মানুষদের অত্যাধুনিক সমাজ সংস্কারের বলি হলো হেনা- সেই মানুষরাই তার মৃত্যু নিয়ে মায়া কান্না ও ইসলামকে কলংকিত করার প্রয়াস চালচ্ছে। আর মহাবুদ্ধিমান কল্যানকামীরা স্বপ্নে বিভোর কখন ক্ষমতায় যাবো আর কখন ছড়ি ঘুড়িয়ে এসব বন্ধ করবো। সমাজ রাজনীতির অংশ নয় বরং রাজনীতিই সমাজের অংশ। তাহলে কেনো রাজনীতি দিয়ে সমাজ সংস্কারের মতো উলটো পথে কল্যানকামীরা হাটছে? বরং সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে এমনিতেই রাজনৈতিক সংস্কার সংগঠিত হওয়ার মতো সহজ পথে প্রত্যাবর্তনই হয়তো সুন্দর রাষ্ট্র ও পৃথিবী গড়তে সহায়ক হবে।





যা থেমে গেলেই শেষ ২১ সম্পর্ক

12 01 2011

[img|http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/lalbritto201012261293342504_helping-hand.jpg]

খুউউউউউবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম ওয়ালেট নেই। কোথায় গেলো? হাঁ। রুমে রেখে এসেছি। এই মুহুর্তে স্থুলাকায় দেহ নিয়ে আবার সিড়ি ভাঙ্গতে মন চাইলোনা। খালি পকেটে হাঁটছি- পিঠে ব্যাগ। অনেক স্বাধীন। মোবাইল আর ওয়ালেট না থাকলে স্বাধীনতা কি জিনিশ বেশ ভালো ভাবে উপলব্ধি করা যায়। আরেকদিন বলেছিলাম ওয়ালেটে টাকা না থাকার কথা। আর আজতো পুরো ওয়ালেটটাই নেই। আহ!! স্বাধীনতা!! যারা পরীক্ষা করতে চান করে দেখতে পারেন। গ্যারান্টি দিচ্ছি। বিফলে মুল্য ফেরত। হিহি। ভাবছেন? ভাবেন। আমরা কম বেশী সবাই লেকচারার। অন্যকে খুব লেকচার দিতে পারি। নিজে কখনো মানি কখনো মানিনা। এতো মানামানির কিছু নাই।

আজ মনটা বেজায় খারাপ। তাই হয়তো পরিচিত পৃথিবীর রঙ্গটাও হলুদ লাগছে। শীতের এই মধ্যাহ্নে রোড ডিভাইডারের মাঝে একজন নারী একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি হাতে কি রকম অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গী করছে। হাসছে? না অনেকটা হাসির মতো। কিন্তু ঠিক হাসি না। আবার কান্নাও না। মনে হলো মোনালিসার মতো। রহস্যময়ী। পুরোনো তিনচারটি জামা একটার উপর আরেকটা গায়ে দেয়া। পাশের গাছের গোড়ায় সিমেন্টের বস্তাকে বাজার ব্যাগ বানিয়ে আমরা যে ব্যাবহার করি ওগুলোর মতো একটায় অনেক কাপর চোপর ঠাশা ঠাশা করে ভরে রাখা। একটা চটের দড়ি দিয়ে হাতলটাকে আঁড়াআড়ী করে বাঁধা। মনে হলো বেচারীর অনেক দুঃখ। তাকে পাগলী বলবোনা। আমাদের চোখে সে পাগলী। কিন্তু তার চোখে আমরা সবাই পাগল। কে আসলে পাগল? সমাজ সংসারে সব কাজ করে যাচ্ছি বলেই আমি একজন সুস্থ মানুষ এটা ভাবার কি খুব বেশি মজবুত কোনো কারন আছে? আমি সুস্থ নই। আমিও একজন পাগল। কারন অন্য অনেক সুস্থ মানুষের মতো ভাবতে পারিনা। সবাই কত সহজ ভাবে কতকিছুকে না বলে দিচ্ছে। আমি পারিনা। আমি এর ভেতরে আরো অনেক কিছু খুঁজে পাই। আমার দোষ? আমি সত্যিই বোধহয় পাগল।

ঘুরে ঘুরে মানুষ দেখছি। কত রঙ আর কত বৈচিত্র। আমি কাউকে কিছু বলছিনা। কেউ আমাকে কিছু বলছেনা। নিশ্চুপ। কিন্তু চারিদিকের দৈনিক শব্দগুলো বোধহয় মেটাল সঙ্গীত হয়ে কানের পর্দায় বিকট আওয়াজ তুলছিলো। মার্কেটের ভেতরে ভাঙ্গা হচ্ছে। বাহির থেকে কিছুই বুঝা যাচ্ছেনা। তখনই বুঝছি, যখন রোদে পোড়া হলদেটে শার্টপরা কুলি তার মাথায় করে জীবিকা অন্বেষনের ভারি ইটগুলো মাথায় করে এনে বাহিরে ফেলছিলেন। হাটতে হাটতেই ভাবলাম- আরে? আমি তো ঠিক এই মার্কেটের মতোই। ভেতরে ভাংচুর হচ্ছে। কেউ দেখছেনা। ঐ কুলির মতো যখন শীতের ঘর্মাক্ত রৌদ্দুরের তাপে সবার সামনে ঢেলে দিচ্ছি তখন হয়তো কিছুটা-তা’ও কিছুটা অনুমান করা গেলো। আমি আঘাত প্রাপ্ত। ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কি দিয়ে চেঁপে ধরবো? গলগল করে সম্পর্কের লাল রক্তগুলো ছড়িয়ে পরছে জগতময়।

সম্পর্ক ঠিক হয়তো নদীর স্রোতের মতো। ঝড় আসার ঠিক আগে পর্যন্ত সে একই রকম। যখন ঝড় এলো- চারিদিক থেকে। আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, মেঘ ইত্যকার যাবতীয়রা সবাই ঝড়ের পক্ষে। প্রচণ্ড আক্রশে উপুকুলের নাগরীকদের ভাসিয়ে দিয়ে যায়। হয়তো নাগরীক পাওনা ছিলো এ ঝড়। তার পাপ, তার দ্বায়ভার কিংবা তার কর্ম ঝড়কে টেনে এনেছে। এরপর? নাগরীক গৃহহারা। অথচ একদিন এই আকাশের সাথে তার কত স্বপ্নের কথা ছিলো। কত রাত্রীতে চাঁদকে কাছে টেনে বলেছিলো জানিশ? আমাদের একটা পৃথিবী হবে। যেখানে সবাই ঠিক তোকে যেভাবে সেভাবে ভালোবাসে আমারা নিজেদেরকে কাছে টেনে নেবো। যতোই মতপার্থক্য থাকুক সবাই মিলে শান্তিতে কিভাবে বসবাস করা যায় সেই ভাবনাই করবো। হয়তো মধ্যরাত্রীর মতো নিরব স্থবীর হয়ে নিশ্চল। কিংবা বালিশের সাথে একাকী কথপোকথন।
এই হচ্ছে সম্পর্ক। যা এতোদিন পর মনে হলো খুবই বোধহয় সুক্ষ্ণ বীনার তারের মতো। হা ঠিক তাই!! বীনার তার। যা আলতো ছোঁয়ায় খুব ঝংকৃত হয়। সঙ্গীতের তুফান তুলে নিমগ্ন করে নানান আকাস কুসুম কিংবা পরাবাস্তবতার সুউচ্চ চাঁদরের বিস্তৃত অঞ্চলে কয়েক কদমের এই সামান্য হেঁটে চলায়। কিন্তু একটু জোরে চাঁপ লাগলেই যেনো সপাং করে টানা তাঁরটি ছিঁড়ে সম্পুর্ণ। আর সঙ্গীত বাঁজেনা। সময়ের ডানা ছুঁয়ে আগামীর ভেদাভেদহীন একটি পৃথিবীর কোনো পালক সাজায় না। খুবই কি ঠুনকো ছিলো? এতোটা হালকা?

[img|http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/lalbritto201012261293342504_HandConstantineCapitoliniMC.jpg]

পৃথিবীটা আমাদের ঘর। একেকজন একেক ভাবে এটাকে সাজাতে চাইবে। এখানের মানুষদের স্বভাবটাই এমন। কেউ হাতুরী দিয়ে ভাংবে। কেউবা বলবে নারে- ভাঙ্গিশনা!! থাকুকনা। কেউবা শুন্যের মাঝে নানান উপাদান দিয়ে অনিন্দ্য ভাষ্কর্য সাজাবে-সচেতন হাতে। এরা সবাই ই যে মানুষ। নানান মতে এরা আপন ঘরটাকে সাজাতে চাইছে। কিন্তু যে সম্পর্কের বাঁধনছিলো এই ঘরের ইস্পাত কঠিন দেয়ালের চেয়েও মোটা তা কিকরে এমন হালকা হয়ে যায়?

মানব চরিত্র অনেক অদ্ভুত। আমি বোধহয় কিছুটা সমান্তরাল। কারো সাথে অতটা মাখামাখিতেও যাইনা। আবার একসময় পুরোনো কলমের মতো কালী শেষ হয়ে গেলে ফেলেও দেইনা। মাঝে মাঝে মনে হয় সম্পর্ক একটা কলম। যাতে অনেক হাসি মাখা কিংবা মান অভিমানের কালী আছে। খুব বেশী ব্যাবহার করলে সে কালী দ্রুতই ফুরিয়ে আসে। একসময় কলমের কোনো খোঁজ থাকেনা। কই? আমি এতো লেখা লিখছি- খোজ রেখেছি আমার পুরোনো অব্যাবহৃত কলমগুলো এখন কোথায় কিভাবে আছে? আমার জেলের ভেতরের ডায়রীতে লিখে যাওয়ার সেই কালো কালীর ইকোনো বলপেনটা এখন কোথায়? পৃথিবীর পরিবর্তনে মানব সভ্যতার নিত্যপ্রয়োজনিয় জিনিশের দাম কেবলি কমে আসছে। তেমনি কমেছে ঘড়ি, মোবাইল,কম্পিউটারের দাম। আমার যে কম্পিউটার আগে ছিলো তার সাথে কত কথা- কত ব্যবহার, হেলাল ভাইয়ের মাধ্যমে অন্যের হাতে চলে যাওয়া সেই উইন্ড পিসিটার আমি তো আর কোনো খোঁজ নেইনি। কলম যেমন অনেকটাই সহজলভ্য তেমনি দিনে দিনে নিত্যপ্রয়োজনিয় সম্পর্কটাও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই একজন দুজন করে বন্ধু জোগার হচ্ছে ফেসবুকে। কি বন্ধুত্ব!! আমাদের!! সেখানেও সম্পর্ক অনেক হালকা একটি বিষয়। মাত্র একটা ক্লিকের বিষয়। ক্লিক- বন্ধুদের তালিকায়, ক্লিক, মুছে ফেললাম। এক্সেপ্টেন্সে কি আনন্দ!! আহা!! আমি বিমোহিত হই!! আবার মুছে দেয়ায় কি আক্রোশ!! আহা!! আমি ক্রমান্বয়ে ভীত হই!! কি সহজ জীবন তাই না?

[img|http://sonarbangladesh.com/blog/uploads/lalbritto201012261293342504_ist2_6071087-computer-screen-and-hand-with-card.jpg]

কি সহজ সম্পর্ক!!
নিজেরা কি টের পাই? পাই না। আমি নিজেও টের পাইনা। কালের পরিক্রমায় আমরা একে অপরের কাছে খুবই অপরিচিত হয়ে উঠছি। খুব কাছা কাছি- অথচ কত সন্দেহ!! খুব পাশাপাশি অথচ কত শ্লেষ, বিদ্রুপ!! ঠাট্টা!! আহা!! এতটুকুও ভাবনা নেই যে তার বক্ষটাকে কিভাবে তীক্ষ্ণ শেলে বিদীর্ণ করে দিচ্ছি আমি। আর বিদীর্ণ বক্ষের এই পথিক পদব্রজে ফিরে আসতে থাকেন তার আঁখড়ার পানে। পথে হুটকরে একটি গাড়ী ভয়াবহ গতীতে এসে ধাম করে রিক্সার পেছনে লাগিয়ে দেয়। সাথে সাথেই বাঁ পাশের চাঁকাটা কাপড় কাঁচতে গেলে যেভাবে থেবড়ানো হয় সেরকম করে নুয়ে পড়লো। রিক্সারোহী পায়ে প্রচন্ড আঘাত পায়। দৌড়ে গিয়ে হাত ধরে তুলে দেই। উঠেই গাড়ীর ড্রাইভিং সিটে বসা ১৮ কি ১৯ বছর বয়সী গোবেচারা হতভম্ব চোখের চেহাড়ায় সেই আঘাত প্রাপ্ত পায়েই দুটো লাথি বসিয়ে দিলো খোলা জানালার পথে। অশ্রব্য উত্তম কিছু কথা শুনিয়ে দিলেন। গাড়ি সাইড করতে চিৎকার চেঁচামেচি। সাইড করার জন্য একটু গতী থামিয়েই উচ্চ গতীতে ছুটে পালালো প্রাইভেটকার।

চারিদিকে মানুষগুলোকে অদম্য আক্রোশে ফেঁটে পরতে দেখছি। আমার অতদিকে নজর নেই। কেবল তাকিয়ে আছি সেই মানুষটার দিকে- যার গত এক সপ্তাহের ঘাম ঝড়ানো টাকাগুলোথেকে জমিয়ে রাখা কিংবা ধার করা টাকায় এই রিক্সাটাকে সারিয়ে তুলতে হবে। হয়তো আরো কিছুদিনের রোজগার বন্ধ। জানিনা আরো ক’দিন তার বস্তিতে রেখে আসা শিশু সন্তান আর বৌকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এক বেলায় না খেলেই আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। রোড ডিভাইডারের পাগলী আমার দিকে তাকিয়ে আছে তার ধুসর চোখের লাল হয়ে উঠা স্ক্লেরার আবরনে, এই এক্সিডেন্ট এইসব কোলাহলে সে একটুও উৎকন্ঠিত নয়। কোনো কেয়ার নেই। যেনো কিছুই ঘটেনি- অথবা ঘটলেও এসব সামান্য বিষয়ে নাক গলানোর কিছু নেই, তার সবটাই মনযোগ আমাকে কেন্দ্র করে। আমি কি? এটাই বোধহয় তার মাথায় খেলে যাচ্ছে। আমি কি অন্যদের মতো পাগল? নাকি তার মত সুস্থ? সব কিছুই ক্যমন যেনো ইন্টারিলেটেড। একটির সাথে অন্যটির অদৃশ্য সম্পর্ক।

দৃষ্টি তার চোখে- সে চোখ নামিয়ে নেয়। ফিরে আসি আস্তানায়। সম্পর্কের সব নিয়ম মেনেই চলতে চাই হয়তো। তবুও কি একটার ঘাটতি হয় কদিন পরেই- কিংবা কখনো চিরদিনের মতো… একটা অব্যক্ত বেদনা কেবলি কূঁকড়ে ফেলছে মন, আমার ভেতরের আমিটাকে-








Follow

Get every new post delivered to your Inbox.