ভালো খারাপের মাঝামাঝি তবে, একটু বুঝি খারাপ লাগছে

12 01 2011

আমি বললাম আমার আর কোনো ফোন নেই। এতো দিন আমি কি দিয়ে চলবো?

ডাক্তার তার মেশিনপত্রের ড্রয়ারটা খুলে পুরোনো চাইনিজ একটা ফোন হাতে দিয়ে বললেন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটাই ব্যাবহার করেন। তবে চার্জার নাই। যেটুকু আছে চলবে হয়তো। নিয়ে এলাম। ২ ঘন্টা পরই ব্যাটারি বার কয়েক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান। জ্ঞান ফেরানোর আর কোনো উপায় নেই। পরশু থেকে এপর্যন্ত প্রায় মৃত অবস্থায় আমার অতথি মোবাইল খানা।

আর টিকতে না পেরে একজনের কাছ থেকে একটা চাইনিজ দুই সিমের মোবাইল ধার করে এনে আমার চার বছরের পুরোনো রঙ উঠে খস খসে হয়ে যাওয়া টেলিটক সিমটাকে ইন করে কল করলাম। ওপাশ থেকে নিয়মমত কেটে দেয়া হলো। এবার কল এলো। রিসিভ করতেই বরাবরের মতো আগেই সালাম দিলাম।

ওপাশে উৎকন্ঠিত কন্ঠেঃ আপনি বেঁচে আছেন?

জি

তাহলে ফোন যাচ্ছেনা কেনো?

আমার ফোন নষ্ট, অডিও আইসিতে কি যেনো গোলমাল। ডাক্তার বললেন অপারেশন করতে হবে তাই হসপিটালে রেখে এলাম।

অভিমানীর আকুল কন্ঠঃ হুম। আমিও এটাই সন্দেহ করছিলাম। কিন্তু ভয় ও হচ্ছিলো। আজকাল কত জোরে গাড়ি চলে। তুই অন্য কোথাও থেকে ফোন করে জানাতে পারলিনা?

সরি আম্মু। ভুল হয়ে গেছে।

হুম শোন- বুশরার আম্মুরা চলে যাচ্ছে- খারাপ লাগছে -এত্তোদিন একসাথে ছিলাম, এখন থেকে ওরা ঢাকায় থাকবে, এদিকে কি হয়েছে জানিশ? বুসরার আব্বু কার এক্সিডেন্ট করেছে। বেচারার সাথে জিনি ছিলেন উনি মরে গেছে- তাকে আশেপাশের মানুষজন ধরে হসপিটালে নিয়ে গেছে। ভাগ্য ভালো বুশরার আব্বুর জ্ঞানছিলো- নয়তো মোবাইল করে কাউকে জানাতেও পারতোনা। তোর যদি এমন হয়? নিরব।

আমিও নিরব। তাই ত!! যদি এমন হয়? পরে থাকলাম রাস্তায়। একজন সুযোগ সন্ধানী মোবাইলটা অফ করে সুন্দর তার পকেটে ভরলো। দু চারজন হাতে পায় ধরে কাছাকাছি কোনো হসপিটালে নিয়ে গেলো- ফাঁকে কেউ একজন ওয়ালেটটা দিলো গায়েব করে। কেউ জানেনা। আমিও জানিনা যে আমার কি অবস্থা। ব্লগ ফেসবুক মেইল- কোথাও কেউ জানবেনা। কি মজা!! সবার কাছ থেকে না বলে বিদায় নেবো। আম্মু- বড় একটি নিঃশ্বাস ফেললেন।

জানিশ? সারাক্ষন কলজেটাকে চিপে ধরে বসে থাকি। মনে হয় এই বুঝি!! ও- তোর আব্বু যে প্যাকেট পাঠিয়েছে ওটাতে এটা ছিলো ওটা ছিলো…আর সাব্বিরের (ফুপাতো ভাই) জন্য একটা ঘড়ি কিছু জামা…।…।

আম্মু- একটা কবিতা শুনবেন?

বল।

গতকালের কবিতাটা পড়ে শুনালাম।

যখন আমি তোমাকে ছেড়ে অনেক দূরে- আমার হাতে কোনো মোবাইল নেই
তুমি চাইলেই কুরিয়ারে আমাকে চিঠি পাঠাতে পারোনা বাবা,সোনা বলে-
তখন তোমার দিনগুলো কিভাবে কাটবে?

জানিনা আমি তোমার কোনো খোঁজ পাবো কিনা-
জানিনা!! এ মায়া কেবলি এই পৃথিবীর জন্য হয়তো!!
কিন্তু আমার মনে হয়- আমি তোমার জন্য কাঁদবো–

বলছি- আর ভেতরে অদ্ভুত একটা খালিলাগা অনুভুতি এসে ক্রমশই গ্রাশ করে ফেলছে। আমি টের পাই আমি কিরকমের যেনো একটা মায়ায় গভীর ভাবে জড়িয়ে পছি। পুরো পৃথিবীটাতে আমি একটা অস্তিত্তের ঘ্রাণে নিজেকে ব্যাকুল দেখছি।

আম্মু চুপ করে রইলেন।
নিশ্বাসে কান্নার ভেজা বাতাস টের পাই। মনে হলো খারাপ আর ভালো এদুটির মঝামাঝি কোনো অবস্থানে আমি ভেসে আছি। তবে একটু বুঝি খারাপই লাগছে। না, ঠিক খারাপ লাগার মতোও না। মানে- অন্যরকম। অনেকটা অনুভুতি থাকা না থাকার মাঝামাঝি।

অন্যের মোবাইল। দিয়ে দিতে হবে। তাই বিশ মিনিটের কলটি শেষ করে সিম খুলে দিয়ে আসি। আর কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন নেই। একটা তৃপ্তি আর অতৃপ্তির মাঝামাঝি আমি আছি।

আমি আছি।

Advertisements

Actions

Information

2 responses

3 06 2011
Amivulmanush

Darun likheso vai. Tomar sathe khub kotha bolte isse kortese.. You are great with pen, also with your heart..

4 06 2011
banna61141

sukriya vaiya…….obossoi kotha bolben….ar joto boro kore likhechen tototai lojja pelam. i m just a simple man

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s




%d bloggers like this: