মানুষকে মানুষই ভাবতে চাই

12 01 2011

এই পোষ্টটি নাজিলের প্রেক্ষাপটঃ ৭ম মন্তব্য

মুহতারাম
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনার প্রশ্ন অনেক যুক্তিযুক্ত। এবং নিশ্চই অনেক জ্ঞানী একজন মানুষ আপনি। তবে আমার প্রকাশ ভঙ্গির নিশ্চই কোনো দূর্বলতা ছিলো যা আমাকে আপনার কাছে অস্বচ্ছ করে রেখেছে। আর তাছাড়া ইসলামের মুখপাত্র হওয়ার আগে আমার ইসলাম সম্পর্কে জেনে নেয়াটা অত্যাবশ্যক ছিলো। সেই আবশ্যকিয়তা পূর্ণ না করেই যে আমি এই সব লিখছি তা আশা করি আপনাকে কেউ জানান দেয় নি।

আপনার পয়েন্ট নিয়ে বিস্তর আলোচনাতে আমার যে সময়টা খরচ হচ্ছে তা হয়তো হতোনা কয়েকটি বিষয়ে আমাদের পূর্ণতা থাকলে।

১। আল্লাহ এং আল্লাহর রাসুল নিয়ে অনুমান বশত কোনো কথা আমি বলিনি। এবং আপনিও পরিষ্কার করেননি যে কোন বিষয়টাতে আমি অনুমান করেছি। বরং (সত্যিকারের ইসলামে অন্য ধর্মের কাউকে ঘৃণা করার তো কোনো অপশন নেই ই বরং বন্ধু হতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নয়তো তারা এর উদারতা ও মহত্ব সম্পর্কে জানবে কিভাবে? আর কিছু আলেম ওলি শব্দের অর্থ বন্ধু মনে করে এখনো হয়তো বকে যায় “তোমরা কাফের ও মূশরিকদেরকে তোমাদের বন্ধু রুপে গ্রহণ করোনা” বাক্যটি। অথচ এখানে ওয়ালী শব্দটির অর্থ হচ্ছে অবিভাবক। ) এই কথাগুলোতে যদি মনে হয় আমি অনুমান নির্ভর কোনো কথা বলছি তাহলে বলবো হয়তো আপনি আমি যে ইসলাম মানছি সে ইসলাম সঠিক, নয়তো রাসুলুল্লাহ যে ইসলাম এনেছিলেন সেটা সঠিক। কারন আমাদের মানা ইসলামের সাথে ইসলামের সত্যিকারের আদর্শে দুরুত্ব এতোই প্রকট যে তা কমিয়ে আনতে চেয়েও আমরা কেবলি দূরে সরে যাচ্ছি

২। মানুষকে আমি বিপথগামী করার কে? ইকরা হুকুম কেবল আমার জন্য আসেনি। এটা প্রত্যেকের জন্যই এসেছে। এবং প্রত্যেকেই যাচাই বাছাই করে ইসলামকে নিজের জীবনে পরিধেয় বস্ত্রের মতো পরিধান করবে। তাছাড়া আমার এই নোট কোনো দারস পেশ করার জন্য নয় যে আমাকে দলীল সহ সব উল্লেখ করতে হবে। যার জানা প্রয়োজন তারা আপনাদের মতো জ্ঞানীদের কাছ থেকে জেনে নেবে।

আমার ষ্ট্যান্ড আল্লাহর হুকুমের বিপরিত কিনা তা ব্যাখ্যা করতে আপনার উল্লেখিত আয়াতের দারস পেশ করছি যা আমার নিজের করা।


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ إِنْ شَاءَ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
O ye who believe! Truly the Pagans are unclean; so let them not, after this year of theirs, approach the Sacred Mosque. And if ye fear poverty, soon will Allah enrich you, if He wills, out of His bounty, for Allah is All-Knowing, All-Wise.(Qur’an, 9:28)

বিষয় বস্তুঃ মুশরীকদের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী হজ্জ করা এবং মাসজিদুল হারমে তাদের প্রবেশ।

আয়াত নাযীলের প্রেক্ষাপটঃ মক্কা বিজয়ের পরেও মুশরীকরা ইসলাম পূর্ব যুগের মতোই হজ্জ করার জন্য মক্কার মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রচেষ্টা চালায়। তখন মুসলমানদের জন্য এই সংক্রান্ত একটি হুকুম জরুরী হয়ে যায় যে তারা কি উদারতা প্রদর্শনে তাদেরকে হজ্জ করতে দেবে নাকি তাদেরকে নিষেধ করবে। মনে রাখতে হবে- রাসুলুল্লাহর কোনো নির্দেশই আল্লাহর ইশারা ছাড়া তিনি করতেননা। ঠিক সেই মুহুর্তে আয়াতটি নাজিল করা হয়। এবং এর কার্যকারীতা কেবল মাত্র মসজিদুল হারাম সংক্রান্ত।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا হে ইমানদার গন- যারা কেবল বিশ্বাস এনেছে তাদের জন্য এই নির্দেশ

إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ নিশ্চই আল্লাহর সাথে শরীককারীরা অপবিত্র। نَجَسٌ এর বাংলা অর্থহচ্ছে অপবিত্রতা। কিন্তু মনে প্রশ্ন থাকতেই পারে যে গোসল করলেইতো অপবিত্রিতা দূর হয়ে যায়। কারন মুশরীকরা যে পানি দিয়ে যেভাবে গা ধুবে আমিও তো মুসলিম হিসেবে সেভাবেই গা ধুবো। তাহলে এর মধ্যে লজিক্যাল পার্থক্য কি? কারন ইসলামতো অযৌক্তিক কোনো ধর্ম নয় যে যা বলবে অন্ধের মতো তাই মেনে নেবো। বরং এটা মানব উপযোগী সবচেয়ে উৎকৃষ্ট একটি জীবন ব্যবস্থা। তাফসীরকারকরা এই নাজাসা কে দু ভাবে বিভক্ত করেছেন। ১। শারীরিক ২। আন্তরীক,

শারীরিক হচ্ছে তৎকালে মূর্তিপূজারীরা বিভিন্ন পশুকে বলী দিয়ে নিজেদের গায় সে রক্ত মেখে কাবার প্রাঙ্গনে নেংটু হয়ে প্রদক্ষীণ করতেন। এটাই নাকি তাদের হজ্জের সিষ্টেম। কিন্তু আপনার আমার লজিকে এটাকে কি বলবে? ঘৃন্য এবং দূর্গন্ধময় একটি পাগলামো।

আন্তরীক হচ্ছে তাদের মধ্যে নানান আকাম কুকাম ছিলো। কাবার প্রাঙ্গণের কাছাকাছি হজ্জের সময় জুয়া, পাশা, অশ্লীল নাচ-গান এবং নানান অপকর্মের বিরাট আসর জমতো। একজন অবিশ্বাসীও একমত হবে যে শারীরিক ভাবে পবিত্র হলেও অন্তরের দিক থেকে এসব নোংড়ামী অনেক অপবিত্রতাকে আহবান করে। যা কোনো জাতির পতনের জন্য মুল চালিকা শক্তি।

আল্লাহর রাসুল হয়তো আমাদের মতো এতোটা ইসলামিক মাইন্ডের ছিলেননা নয়তো কাফির মুশরীকদের সাথে কিরকম খাতির তার ছিলো যে তারা তার কাছে সম্পদ জমা রেখে নিজ বাড়ীতে নির্দ্বিধায় ঘুমাতো। এক টেবিলে বসে মদিনার ইয়াহুদিরা এবং মক্কাবিজয়ের পরে নাজাসার হুকুম আসলো তার পরও বিভিন্ন গোত্রের মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

আয়াতের বাকী অংশোটি আমার কাছে আপনার মন্তব্যের প্রসঙ্গে অপ্রাসাঙ্গীক মনে হলো তাই দিলামনা।

আর এই নাজাসা সম্পর্কে ঈমামদের মতামত হচ্ছেঃ ইমাম আবু হানিফার মতে এর অর্থ শুধু এতটুকুই যে, হজ্জ ও উমরাহ এবং জাহেলী অনুষ্ঠানাদি পালন করার জন্য তারা হারাম শরীফের সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না। ইমাম শাফেয়ীর মতে এ হুকুমের অর্থ হচ্ছে,তারা (যে কোন অব্স্থায়ই )মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে পারবে না। ইমাম মালেক বলেন, শুধু মসজিদে হারামেই নয়, দুনিয়ার অন্য কোন মসজিদেও তাদের প্রবেশ জায়েজ নয়। তবে এ শেষোক্ত মতটি সঠিক নয়। কারণ নবী (সা) নিজেই তাদের মসজিদে নববীতে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন।

কপাল গুনে আমরা রাসুলুল্লাহর (সা) চেয়েও অনেক ভালো মুসলিম হলাম!!

তথ্য সুত্রঃ
Click this link…

Click this link…

আমার কথার ভিন্ন কোনো অর্থ বুঝে নেয়ার আগে আমার কাছ থেকে অনুমুতি নিয়ে নেবেনঃ যেমন আমি চাই আপনার এই বাক্যের অর্থ এভাবে ধরে নিতে। আপনি কি মনে করেন?

Advertisements

Actions

Information

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s




%d bloggers like this: