কিছু মানুষ সত্যিই মানুষ

4 06 2011

সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রখেই ঘাসফরিং বলেঃ কেনো যে জীবনে এত এত ভালো মানুষের সমাহার!! ওর কন্ঠে কৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু ছিলোনা আমি হলফ করে বলতে পারি।

কিছু স্বভাব মানুষকে মানুষ করে তোলে। এখানে প্রথম মানুষ শব্দটা প্রাণী মানুষকে কেবল একটা জীব হিসেবে প্রকাশ করছে। আর দ্বিতীয় মানুষটা হচ্ছে একদমই আত্মীক। আত্মার সাথে অনাবিল একটি প্রবাহিত তরঙ্গের জালে আটকা পরে যায় আশপাশের সবাই। এই বাঁধনটাও একরকম অদ্ভুত। অনেক মজবুত।

সেই মানুষকে দেখলে মনে হয় যেনো নদী। কলকল শব্দে মৃদু কাকলীতে যেনো বহতা নীল। যেখানে সবার ব্যাথারা আর সুখেরা এসে ঠাঁই নেয়। মাছরাঙ্গারা উড়ে উড়ে চক্কর মারে তার বুকে। এই বুঝি মাছ ভেসে উঠলো। টুপ করে সোজা ডুব দিয়ে ছোট্ট চোট্ট কাঁটার রঙ্গীন মাছগুলোকে তুলে নেয়ার ক্ষুদ্র আনন্দ যে কতটা ভয়াবহ সুন্দর তা টের পাই। কেননা সেই সৌন্দর্যের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারিনি। তীরের গাছগুলোকে অনাবিল কোন দুর্বার আকর্ষণে আকৃষ্ট করে রেখেছেন। এ নদী কোনো প্রলয়ংকরী প্রমত্তা নয়। সে ভেঙ্গে চুরমার করেনা তার কিনার। বরং গড়ে দেয় পলির সমাহারে আরো নতুন ভুমি। বিছিয়ে দেয় চরের মাটি। যেখানে হবে আবাস, ফুলের বাগান, কিংবা সুন্দরকে গ্রহন করার প্রত্যাশায় এই ঘুনে ধরা সভ্যতার ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ।

আবার তার চেহারায় তাকিয়ে মনে হয়- না। নদীর মতো ছোট তিনি নন। তাহলে কি সমুদ্র? হা তাই হবে। কেননা এরকম হাজারো নদী ধারণ করতে পারা কোনো মানুষ। যেখানে দিগন্তের অস্তরেখার গায় ঢলে পরে প্রচন্ড উত্তপ্ত সূর্য। আর রাতের আকাশকে মোহময় করার সেই চাঁদের প্রতিফলিত নৃত্য বুঝি খেলা করে। যে সমুদ্রের বুকে নাবিক পথ হারিয়ে ফেলতে পারে অনায়াসেই। কিন্তু নাবিক হয়তো এতোটুকুও আফসোস করবেনা তাতে। তার বুঝি হারিয়ে যাওয়াতেই সুখ। জ্ঞানের প্রচন্ড ঝড়ের কবলে নিজেকে সমৃদ্ধ করার যে সুজোগ, কে হাতছাড়া করতে চায়?

তিনি কি কেবল পানির মতো তরলই? কখনো মনে হয়েছে আকাশ। যেখানে চিন্তার মেঘেরা ডানা মেলে দিধাহীন লুকোচুরি খেলে রোদের সাথে। পাখিদের পালকে শিশ দেয় বাতাস। একটা সুবিশাল আধার যেনো। লক্ষ তারার মহা সমাবেশ। এক্ষুনি যেনো মাউথ পিস হাতে নিয়ে তাঁর শতাব্দীর রাজনৈতিকতা শুরু হবে। বৃত্ত, ঘাসফরিং, অনিন্দ্য, কোকিল সবাই মুগ্ধ শ্রোতা, আবার হয়তো এরাও হয়ে ওঠে বক্তা। আকাশের স্পর্শতায় যেনো সকলেরই মহান হবার নন্দিত আয়োজন।

একবার মনে হলো নাহ- উনি পাহাড়। গাম্ভির্যের পূর্ণতায় এক সুবিশাল মায়াময় সবুজ পাহাড়। কিন্তু সেই পাহাড় গলে যখন ঝর্ণার কাকলী স্থির কান্নার অভাবনিয় সৌন্দর্য নিয়ে গড়িয়ে পড়ে তখন টালমাটাল হয়ে যাই। উনি কি কোনো পাহাড়ীর ঝর্ণা? নাকি ঝর্ণার আঁকাবাঁকা তীর ধরে নেচে যাওয়া উচ্ছল কোনো গ্রাম্য কিশোরী? কিংবা কিশোরীর চুলের ক্ষণে ক্ষণে লাফিয়ে চলা বেনী? অথবা সেই সর্পিল বেনীর শেষ প্রান্তে বাঁধা কোনো রঙ্গীন রাবার ব্যান্ড? যা আমাদেরকে অদৃশ্য বাঁধনে একে অপরের সাথে প্রাণের ভেতরের কোনো না দেখা বাঁধনে বেঁধে রখেছেন?

একটা জ্ঞানের দিন কাটিয়ে ফেরার পথে ভেবে যাই, উনি কি এই সবই? না উনি এসব নয় হয়তো। আবার মনে হলো না, উনি আসলে এর সবই এবং আমার বড় আপুজি।

Advertisements

Actions

Information

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s




%d bloggers like this: